বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন
ভয়েস প্রতিবেদক:
টেকনাফে পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো: রাশেদ নিহতের ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৩টার দিকে ঘটনা পরিদর্শনে এসে কক্সবাজার সৈকতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস জলতরঙ্গের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘সিনহা হত্যাকান্ড নিয়ে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোন ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ, যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি কোন প্রতিষ্ঠান দায়ী হতে পারে না। তদন্ত কমিটি যাদের দোষী সাব্যস্ত করবে অবশ্যই তাদেরকে প্রায়শ্চিত্য পেতে হবে। এজন্য কোন প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতা করবে না। এঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের কোন ধরণের ফাটল সৃষ্টি হবে না।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে বিমানবন্দর হয়ে কক্সবাজার সৈকতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর রেস্ট হাউস জলতরঙ্গে এসে পৌছেন। এসময় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের শামলাপুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এর আগে বেলা ১২টার দিকে টেকনাফ থানা ওসি প্রদীপ কুমার দাশ সহ ৯জনকে আসামী করে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট তামান্না ফারাহ’র আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে টেকনাফ থানাকে এজাহার হিসাবে নথিভূক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে মামলাটি র্যাবকে তদন্ত করারও আদেশ দেয়া হয়েছে।
মামলায় আসামী করা হয়েছে টেকনাফ বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া, এসআই টুটুল, কনষ্টেবল মো: মোস্তফা। এরা সকলেই টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ওইদিন রাতে কর্মরত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জন ও নিরাপত্তা বিভাগ। একইভাবে তদন্তের স্বার্থে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলিসহ ১৬জন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ভয়েস/আআ